বাংলাদেশ, নেপাল, ভূটান, শ্রীলঙ্কার অবস্থান জেনেনিন
নরেন্দ্র মোদী শ্রীলঙ্কায় সফর করে এসেছেন, উন্নত হয়েছে দুই দেশের সম্পর্ক - ফাইল ছবিআফগানিস্তান, বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা, নেপাল, মিয়ানমার এবং ভুটানের মতো দক্ষিণ এশিয়ার প্রতিবেশী দেশগুলোর জন্য ভারত ও পাকিস্তানের চলমান উত্তেজনা বহুমাত্রিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
গত বছর বাংলাদেশে জুলাই মাসের গণ-অভ্যুত্থানে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার পতন ঘটে। এরপর অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সঙ্গে ভারতের বিভিন্ন বিষয়ে মতবিরোধ সৃষ্টি হয়েছে।
বিশ্লেষক কামার আগা মনে করেন, চীন দক্ষিণ এশিয়ার অনেক দেশে বিনিয়োগ করলেও, এই বিনিয়োগ থেকে চীনই বেশি লাভবান হয়েছে। ফলে মালদ্বীপ ও শ্রীলঙ্কার মতো দেশগুলো আবার ভারতের দিকে ঝুঁকতে শুরু করেছে।
শুভদা চৌধুরীর মতে, ভারত-পাকিস্তান সংঘাত দীর্ঘমেয়াদে প্রতিবেশী দেশগুলোর ওপর ভিন্ন ভিন্ন প্রভাব ফেলবে। উদাহরণস্বরূপ, নেপালের ৬০ শতাংশ বাণিজ্য ভারতের সঙ্গে, যা এই উত্তেজনার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। বন্দর ও বাণিজ্যিক কার্যক্রমে নেপাল সমস্যায় পড়বে, তাই দেশটি চাইবে এই সংঘাত দ্রুত নিষ্পত্তি হোক। তবে চীন এই সুযোগে নেপালের সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর করার চেষ্টা চালাতে পারে।
তার মতে, ভুটানও অর্থনৈতিক সংকটে পড়তে পারে, বিশেষত ভারতের অর্থনীতি দুর্বল হলে সেখানকার পর্যটন খাত মারাত্মকভাবে প্রভাবিত হবে।
দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতি বিশ্লেষক ও সাউথ এশিয়ান ইউনিভার্সিটির সহযোগী অধ্যাপক ধনঞ্জয় ত্রিপাঠি মনে করেন, আফগানিস্তান বাদে বাকি দেশগুলো এই উত্তেজনার বিষয়ে নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রাখবে।
তার ভাষায়, "ভারত এই অঞ্চলের বৃহত্তম অর্থনৈতিক শক্তি, যার সঙ্গে ছোট ছোট প্রতিবেশী দেশগুলোর গভীর অর্থনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে। নেপাল ও শ্রীলঙ্কার মতো দেশগুলো পর্যটন আয়ের ওপর নির্ভরশীল, তাই তারা চাইবে এই সংঘাত যেন দ্রুত সমাধান হয়।"

Post a Comment